২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২২ থেকে যুদ্ধ শুরু ইউক্রেন-রাশিয়া। আজ ১০ মার্চ বৃহস্পতিবারও চলছে টানা যুদ্ধ । এই যুদ্ধের শেষ পরিণতি কী হতে পারে ? যুদ্ধ কী এই দুটি দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে ? এই যুদ্ধে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত কী সঠিক ? নানান প্রশ্ন ? প্রথমত ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধের প্রেক্ষাপট একদিনে তৈরি হয়নি । ২০১৪ সাল থেকে ইউক্রেনে ক্ষমতায় আছে আমেরিকাপন্থী সরকার । যারা ইউক্রেনে বসবাস করা রাশিয়ান ভাষাভাষীদেরকে হত্যা, নির্যাতন, খুন, গুম করে আসছে । বহু রুশভাষী ইউক্রেনি নাগরীক ইউক্রেন ছেড়ে রাশিয়া আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় । যার প্রেক্ষাপটে রাশিয়া সরকার ২০১৪ সালে ইউক্রেনের রুশভাষী অঞ্চল ক্রিমিয়া দখল করে নেয় । যা কৌশলগত দিক থেকেও রাশিয়ার জন্য খুব প্রয়োজন ছিলো । ইউক্রেনের লুহানস্ক এবং দোনেস্ক রুশভাষী অঞ্চলেও রাশিয়াপন্থী রুশভাষীরা ইউক্রেন সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে আসছে বহুদিন যাবৎ।যা নিয়ে ইউক্রেন-রাশিয়া পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়েছে । উত্তেজনা বেড়েই চলে বছরের পর বছর । সবশেষ ইউক্রেনের বর্তমান আমেরিকাপন্থী জেলেনস্কি সরকার ন্যাটোতে যোগদিতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছে । ন্যাটোর সম্প্রসারণ নিয়ে ১৯৯১ থেকে ন্যাটো-রাশিয়া বাকযুদ্ধ চলে আসছে । ন্যাটো তার ব্যাপ্তি আর সম্প্রসারণ করবেনা এমন ওয়াদা বারবার ভঙ্গ করেছে আমেরিকা ও মিএ ইউরোপ । অন্যদিকে ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগদিলে সেখানে ইউক্রেনে ঘাটি করবে মার্কিন সৈন্যরা । রাশিয়ার ঘাড়ের উপর আমেরিকা নিশ্বাস নিক তা নিশ্চয়ই রাশিয়া চাইবেনা। একদিকে ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগের পথ অন্যদিকে ইউক্রেনে রাশিয়াভাষী ইউক্রেনিদেরকে হত্যার, নির্যাতন থেকে রক্ষার অভিপ্রায় । পুতিন চেয়েছিলো ইউক্রেন কথাদিক সে ন্যাটোতে যোগ দিবেনা এবং রাশিয়ার কথা শুনবে । কিন্তু ইউক্রেন চললো উল্টো পথে । ফলে রাশিয়ার পুতিনের যুদ্ধ ছাড়া উপায় ছিলোনা । যুদ্ধে রাশিয়া কিন্তু তার আধুনিক অস্ত্র বিমান ব্যবহার না করে পুরোনা ধাচের যুদ্ধের সরঞ্জাম দিয়ে ইউক্রেন ধীরে সুস্থে দখল করার কৌশল নিয়েছে । যেখানে অতি কমসংখ্যক মানুষের প্রাণহানিতে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েব দখল করা যায় । সেপথেই এগুচ্ছে রাশিয়া । এখন আসি এই যুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান কী ? বাংলাদেশের অবস্থান হচ্ছে ব্যালেন্সের কৌশলে রাশিয়ারদিকে অবস্থান নেয়া । যা ভারত পাকিস্তানও এই অবস্থান নিয়েছে । চীন রাশিয়ার বন্ধু । চীন-রাশিয়া বেল্টে অবস্থান নিলে সেখানে গণতন্ত্রণের জন্য কোনো প্রশ্নের মুখিমুখি হতে হয়না । যা বর্তমান সরকারের প্রশ্নবিদ্ধ ভোট ও নির্বাচনের জন্যও সুবিধাজনক । কিন্তু ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে বাংলাদেশ তলোয়ারের উপরেই আছে, কারণ যুদ্ধের ফলাফলের উপর নির্ভর করবে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত সঠিক কী বেঠিক । ইউক্রেন যুদ্ধটি যদি দীর্ঘায়িত হয় । এবং রাশিয়ার সৈন্যরা যদি ইউক্রেনে স্থায়ী ঘাটি গড়ে তোলে তবে যুদ্ধের পরিসীমা বাড়বে ধীরে ধারে । প্রক্সি যুদ্ধ বাড়বে বছর বছর । যুদ্ধের অশান্তির আবহ তৈরি হবে ইউরোপের দেশগুলোতে, এবং নিষেধাজ্ঞায় পিস্ট রাশিয়াতে। যা পরবর্তিতে একসময় এসে রুপ নিতে পারে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ । মানবজাতি ধংসের যুদ্ধ ।
মো : ইমাম হোসেন
গবেষক, লেখক ।
ঢাকা, বাংলাদেশ ।
১০ মার্চ ২০২২
Comments
Post a Comment