চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাজেদা বেগম ও তার ছেলে মো : রহিম মিজির বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেছে চাঁদপুর নারী শিশু নির্যাতন আদালত । মামলা নং ৪৪১/২০২১ । আদালতে দেয়া মামলার নথি ও বিবরণ থেকে জানা যায় ফরিদগঞ্জের পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা কাচিয়াড়া গ্রামের রফিক ও খুকি দম্পত্তির মেয়ে মুনতাহা ইসলাম আন্তকে ২০১৩ সালে বিয়ে দেন ভাইস চেয়ারম্যান মাজেদা বেগমের ছেলে রহিম মিজির কাছে । বিয়েতে ছল চাতুরির আশ্রয় নিয়ে রহিম বিয়ের কাবিন রেজিস্ট্রেশন করা থেকে বিরত থাকে। বিয়ের পর তাদের ঘরে জন্ম নেয় এক ছেলে। বর্তমানে ছেলের বয়স ৮ বছর ।
মামলার বিবরণ মতে বিয়ের পর মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে শ্বশুর রফিক মিয়া তার মেয়ের জামাইকে ব্যবসার জন্য মোটা অংকের টাকা দেয় । কিন্তু শর্ত দেয় যে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন করতে হবে । তাতেও রহিম ছল চতুরতার আশ্রয় নিয়ে কাবিন রেজিস্ট্রেশন করতে কালক্ষেপন করে । মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে শ্বশুর রফিক মিয়া তার মেয়ে মুনতাহা ইসলাম অন্তর নামে ফরিদগঞ্জের ভান্ডারি মহল সংলগ্ন এনসিসি ব্যাংকের পেছনে ৬ শতক জমি লিখে দেন । কিন্তু ঐ জমির অর্ধেক রহিম নিজ নামে নিয়েনেন শ্বশুরের অজ্ঞাতে । বিয়ের পর থেকেই রহিম পরনারীতে আসক্ত হয় এবং মোবাইলে বিভিন্ন নারীদের সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হয় বলে বাদীনী রহিমের স্ত্রী তা উল্লেখ করেন । এই নিয়ে সংসারে অশান্তি সৃষ্টি হলে রহিম তার স্ত্রীর উপর শারীরীক ও মানষিক নির্যাতন শুরু করে । ফরিদগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাজেদা বেগম তার ছেলের এমন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কোনো দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেননি । পরে আরো টাকা দাবী করে রহিম । এই নিয়ে কয়েকবার শালিশ দরবারে বসে দু' পক্ষ। এরই মধ্যে রহিম তার স্ত্রীকে নিয়ে পৌর এলাকায় থাকতে তার শ্বশুরের কাছে একটি ফ্ল্যাট দাবী করে ।
মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে তার মেয়েকে পুরাতন বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন এলাকায় একটি ফ্ল্যাট দেন । কিন্তু রহিম শ্বশুরের দেয়া ফ্ল্যাট নিজ নামে তা নিতে চায় এবং অশান্তি শুরু করে । এরই মাঝে রহিম ফরিদগঞ্জের চরকুমিরা গ্রামের বাইল্লা বাড়িতে দ্বিতীয় বিয়ে করে । পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১ তারিখে রহিম তার প্রথম স্ত্রী মুনতাহা ইসলামকে ব্যাপক মারধর করে । প্রথমে তাকে ফরিদগঞ্জ চতুরা মেডিকেল ও পরে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । পরে ফরিদগঞ্জ থানায় মামলা দিতে চাইলে মামলা না নেয়ায় চাঁদপুর আদালতে মামলা করে । পরে চাঁদপুর আদালত ফরিদগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাজেদা বেগম ও তার ছেলে রহিমের নামে ৫ ডিসেম্বর ২০২১ সালে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে । যার স্মারক নং ৩৯৬০ । এই বিষয়ে রহিমের দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে খবর নিয়ে জানা যায় সেখানে রহিম বলেছে তার প্রথম স্ত্রীকে সে তালাক দিয়েছে । তালাকের কোনো ডকুমেন্ট তাদের দেয়নি ।
এবিষয়ে রহিমের প্রথম স্ত্রী মুনতাহা ইসলাম জানান তিনি কোনো তালাকের নোটিশ পাননি । তার অজ্ঞাতে রহিম বিয়ে করে । স্ত্রী ও ৮ বছরের সন্তান রেখে রহিম দ্বিতীয় বিয়ে করে । এই বিষয়ে তার শাশুড়ি খুকি বেগম বলেন আমরা মেয়ের সুখের জন্য জামাই রহিমের সকল আবদার মিটিয়েছি , যখন যা চেয়েছে তাই দিয়েছি । তারপরও আমার মেয়ে সেই সংসারে শান্তিতে থাকতে পারেনি , অত্যাচারিত হয়েছে, লাঞ্চিত হয়েছে রহিমের কাছে । যা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মা মাজেদা বেগমের সামনেই ঘটতো এসব অত্যাচার । তিনি তার কোনো প্রতিকার করেননি । বরং তার ছেলেকে প্রশ্রয় দিয়েছেন । যিনি নারীর অধিকারের কথা বলবেন তিনিই নারীর অধিকার হরণে কাজ করেন । আমরা আদালতে গিয়েছি এর সুবিচার পেতে ।
এবিষয়ে জানতে চাইলে রহিম ফোনে বলেন মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে । আমার মা জামিন পেয়েছেন, আমি জামিন পাওয়ার চেষ্টা করতেছি । প্রথম স্ত্রীকে তালাক না দিয়ে বা অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে প্রসঙ্গে রহিম বলেন আমি আমার প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়েছি । কিন্তু তালাকের রিসিভ কপি চাইলে তা তিনি দেখাতে পারেননি । দ্বিতীয় বিয়েতে তিনি ছল চতুরতার আশ্রয় নিয়েছেন এমন প্রসংগে রহিম বলেন আমি কোনো ছল চতুরতার আশ্রয় নেইনি । দ্বিতীয় স্ত্রী অপ্রাপ্ত বয়সের সেবিষয়ে জানতে চাইলে রহিম তার কোনো সঠিক জবাব দেননি । তার মা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাজেদা বেগমের সাথে কথা বলতে চাইলে রহিম জানান তার মা এই বিষয়ে কোনো কথা বলবেননা । এব্যাপারে ফরিদগঞ্জ থানা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানা ভুক্ত আসামী রহিমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে তাকে পুলিশ খুঁজচ্ছে । এবং রহিমকে গ্রেফতার করা হবে ।
Comments
Post a Comment